রবিবার, ০৫ Jul ২০২৬, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন

১০ মাস পর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন কার্টুনিস্ট কিশোর

জেল সুপার জানান, আহমেদ কবির কিশোরের জামিনের কাগজ বেলা ১১টার দিকে কাশিমপুর কারাগারে পৌঁছায়। পরে তা যাচাই-বাছাই শেষে কিশোরকে মুক্তি দেওয়া হয়। এ সময় কারাফটকে উপস্থিত ছিলেন কিশোরের স্বজনেরা। তবে কিশোর ও তাঁর স্বজনেরা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি।

এর আগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরকে গতকাল বুধবার ছয় মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। গত ১ মার্চ জামিনের শুনানি শেষে ৩ মার্চ আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট।

আদালতে কিশোরের পক্ষে ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সরোয়ার হোসেন বাপ্পী।

এর আগে নিম্ন আদালতে জামিন চেয়ে ব্যর্থ হয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কিশোরের তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। একই দিন মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবুবকর সিদ্দিক ১০ মার্চ দিন ধার্য করেন।

এর আগে ১৩ জানুয়ারি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সংশ্লিষ্ট সাধারণ নিবন্ধন (জিআর) শাখায় এ চার্জশিট জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহসীন সর্দার। চার্জশিটে তিনজনকে অভিযুক্ত ও আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারায় তাঁদের অব্যাহতির আবেদন করা হয়।

চার্জশিটভুক্ত অপর আসামিরা হলেন- রাষ্ট্রচিন্তার ঢাকার সমন্বয়ক দিদারুল ভুইয়া ও লেখক মুশতাক আহমেদ। চার্জশিটে অব্যাহতি পাওয়া আসামিরা হলেন- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক পরিচালক মিনহাজ মান্নান, নেত্র নিউজের তাসনীম খলিল, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক সাহেদ আলম, জার্মানিতে থাকা ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিন, জুলকারনাইন সায়ের খান, আশিক ইমরান, স্বপন ওয়াহিদ ও ফিলিপ শুমাখার। এর মধ্যে লেখক মুশতাক আহমেদ কারাগারে সম্প্রতি মারা গেছেন।

গত বছরের ৫ মে র‌্যাব-৩-এর ওয়ারেন্ট অফিসার আবু বকর সিদ্দিক রমনা থানায় কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলাটি করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা ‘আই অ্যাম বাংলাদেশি’ নামের ফেসবুক পেজে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বা সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশে অপপ্রচার বা গুজবসহ বিভিন্ন ধরনের পোস্ট দিয়েছেন। যা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটায়

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com